
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মেহেরআটি গ্রামের মো. জসিম উদ্দিন তালুকদার ও উত্তর বন্দরের মো. রাসেদের মধ্যে জমি বিক্রির বায়না চুক্তি ঘিরে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ অনুসারে, ২০২১ সালে রাসেদ ৮ শতক জমি ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে জসিমের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা অগ্রিম বায়না গ্রহণ করেন। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, ৬ মাসের মধ্যে জমি হস্তান্তর করতে হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও রাসেদ জমি হস্তান্তর করেননি। স্থানীয় স্বাক্ষী মো. হাসান, মো. হোসেন ও আজিম এ সময়কার ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।
২০২৩ সালেও জমি হস্তান্তর না হওয়ায় রাসেদ সাক্ষীদের সামনে মৌখিকভাবে স্বীকার করেন এবং তিন মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও রাসেদ মাত্র ১৫ লাখ টাকা তিন কিস্তিতে ফেরত দেন এবং এরপর আত্মগোপনে চলে যান।
২০২৪ সালে জসিম বাধ্য হয়ে রাসেদের পরিবারের, বিশেষ করে তার মায়ের শরণাপন্ন হন। প্রথমদিকে রাসেদের মা আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে তিনি জানান, ছেলে আর টাকা দিতে রাজি নয়।
এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সর্বশেষ ১৩ এপ্রিল ২০২৫ সালে শান্তির হাট এলাকায় একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য রুমি আক্তার সভাপতিত্ব করেন। উপস্থিত ছিলেন রাসেদের মা, বোন ও ভাগিনা। সেখানে রাসেদ পাওনা টাকা স্বীকার করে ৬ কিস্তিতে ফেরতের আবেদন করেন এবং ৬টি চেক ও ৩০০ টাকার একটি অঙ্গীকারনামা তৈরি করে স্বাক্ষীদের সম্মুখে হস্তান্তর করেন। তিনি জানান, পরদিন ওই স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করবেন।
কিন্তু পরদিন রাসেদ অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান এবং আইনজীবীর পরামর্শের কথা বলে পিছিয়ে যান। এর কিছুদিন পর, ১৭ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে তিনি উল্টো জসিমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর ২০৯/২০২৫)।
এ বিষয়ে জসিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, “আমি আইন মেনেই জমি কেনার জন্য অগ্রিম টাকা দিয়েছিলাম। এখন রাসেদ প্রতারণা করে উল্টো আমাকে হয়রানি করছে। আমি আইনের আশ্রয় নেব।”
ইউপি সদস্য রুমি আক্তার বলেন, “রাসেদ আমাদের উপস্থিতিতে টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেছিল এবং লিখিত অঙ্গীকারনামাও হয়েছিল। তার এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ দুঃখজনক।”
স্বাক্ষী মো. হাসান বলেন, “আমি বায়না চুক্তির সময় উপস্থিত ছিলাম। এখন রাসেদের এমন অস্বীকার দেখে হতবাক।”
বর্তমানে আদালতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ সুবিচার পাবে।



