রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কক্সবাজারে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান, ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ

কক্সবাজারের টেকনাফে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩২...

উত্তপ্ত কর্ণফুলী ঘাট, খাস কালেকশনের ঘোষণায় নতুন ক্ষোভ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) পরিচালিত সদরঘাট, অভয়মিত্র ঘাট ও বাংলাবাজার ঘাটের নিলাম কার্যক্রম হাইকোর্টের নির্দেশে ৬ মাসের জন্য স্থগিত থাকলেও চসিকের সাম্প্রতিক খাস কালেকশন আদেশে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২ মার্চ চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ-সচিব) সরোয়ার কামাল স্বাক্ষরিত এক আদেশে অভয়মিত্র ঘাটের খাস আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এস্টেট শাখার বাজার পরিদর্শক দুর্বাদল চৌধুরীকে। যাত্রী পারাপার ও সহযোগিতার জন্য ফিরিঙ্গিবাজার এলাকার শেখ মোহাম্মদ যুবরাজকে সাময়িকভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়, যিনি অভিযোগ অনুযায়ী বিএনপির অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং পেশাদার মাঝি নন।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছে চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক সমিতির ২১৪ জন মাঝি, যাদের জীবিকা সরাসরি এসব ঘাটের ওপর নির্ভরশীল। তাদের দাবি, আদালতের স্থগিতাদেশ উপেক্ষা করে বহিরাগত ব্যবসায়ীদের হাতে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে, যা প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে ফেলেছে।

হাইকোর্টের নির্দেশনা লঙ্ঘনের অভিযোগ

৫ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সাঈদ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চসিকের ঘাট নিলাম কার্যক্রম ৬ মাসের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন। তবে চসিকের খাস কালেকশনের নতুন আদেশকে এই নির্দেশনার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সাম্পান মাঝিরা। তারা লিখিতভাবে মেয়র, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজস্ব কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

মাঝিদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের প্রস্তুতি

চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন জানান, মাঝিদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বহিরাগতদের হাতে ঘাটের নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন। কর্ণফুলী নদী সাম্পান মাঝি কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এসএম পেয়ার আলী বলেন, ‘২০০৩ সালের পাটনিজীবী নীতিমালা উপেক্ষা করে আমাদের উচ্ছেদ করার চক্রান্ত চলছে, তবে আমরা আমাদের অধিকার রক্ষায় প্রস্তুত।’

চসিকের আশ্বাসেও শঙ্কা কাটছে না

চসিক মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাতের পর মাঝিদের আশ্বস্ত করা হলেও তারা এখনো শঙ্কামুক্ত নন। তাদের অভিযোগ, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী বেশি অর্থের বিনিময়ে ঘাটের ইজারা নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন, যা মাঝিদের অধিকার লঙ্ঘন করবে। চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম সরোয়ার কামাল জানান, ‘আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনটি ঘাটের নিলাম কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে, তবে খাস কালেকশনের বিষয়ে মেয়রের নির্দেশে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

সাম্পান মাঝিদের হুঁশিয়ারি

মাঝিরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তাদের জীবিকার প্রশ্নে তারা কোনো অন্যায় সিদ্ধান্ত মানবেন না। চরপাথরঘাটা ব্রিজঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতির সভাপতি জাফর আহমদ বলেন, ‘মাঝিদের স্বার্থ উপেক্ষা করে বহিরাগতদের হাতে ঘাট তুলে দেওয়া হলে আমরা নৌকা ও সাম্পান রেখে নদীতে বিক্ষোভ করবো।’

বর্তমানে চসিকের সিদ্ধান্তে কর্ণফুলী নদীর সাম্পান মাঝিদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। তারা দ্রুত হাইকোর্টের আদেশ বাস্তবায়ন ও তাদের অধিকার রক্ষার জন্য চসিকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।