
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানাধীন চরলক্ষ্যা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাড়িতে ডাকাতির অভিযোগে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মৌলভীবাজার ইব্রাহিম চেয়ারম্যান বাড়িতে ডাকাতি হচ্ছে বলে স্থানীয় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে মুহূর্তেই জনতা জড়ো হয়ে যায়। স্থানীয়রা চারপাশ থেকে বাড়িটি ঘিরে ফেললে সন্দেহভাজন ডাকাতরা ঘরের ভিতরে ঢুকে বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর ও ছোড়াছুড়ি শুরু করে। এক পর্যায়ে একজন জানালার গ্রিল ভেঙে দ্বিতীয় তলা থেকে পালানোর চেষ্টা করলে জনতা তাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি টিম এবং দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে মাতাল অবস্থায় দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিরা হলেন চরলক্ষ্যা ০৫ ওয়ার্ডের আবুল বাশারের ছেলে আনু মিয়া (৪০) ও চরপাথরঘাটা ৮ নং ওয়ার্ডের মৃত বিচ্ছু মিয়ার ছেলে জানে আলম (৩৫)। আহত আনু মিয়াকে থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর বাংলাবাজার ঘাট এলাকায় তেলের ব্যবসা করতেন খুরশীদ আলম। আটক মনু মিয়া ও জানে আলম খুরশীদের কাছ থেকে খুচরা তেল সংগ্রহ করতেন। কিছু আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধের জেরে বছরখানেক আগে খুরশীদ আলমকে কুপিয়ে জখম করেন মনু মিয়া, যা নিয়ে থানায় মামলা হয় এবং দেওয়ালে পোস্টারিং করা হয়েছিল। শনিবার সন্ধ্যায় মনু মিয়া ও জানে আলমসহ ৩-৪ জন অতর্কিতভাবে খুরশীদ আলমের বাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় বাড়ির মালিক খুরশীদ আলম নগরে থাকলেও তার ছোট ভাই শহিদুল আলম পরিবারসহ সেখানে বসবাস করছিলেন। হামলার সময় শহিদুল বাড়ির বাইরে থাকলেও তার স্ত্রী ও সন্তান ঘরের ভেতরে ছিলেন। সন্দেহভাজনরা বাড়িতে ঢুকে দোতলার দরজা ভাঙচুর করলে শব্দ শুনে শহিদুল দ্রুত বাইরে চলে যান এবং স্থানীয়দের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী অভিযুক্তদের দেশীয় অস্ত্র ছুরি চাপাতি সহ আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ জানান, “বসতবাড়িতে ডাকাতি সন্দেহে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”



