
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সাড়ে তেরো লাখ টাকার একটি নাটকীয় ছিনতাইয়ের ঘটনার পর্দা ফাঁস করেছে পুলিশ। গ্যাস কোম্পানির পিয়ন সেলিম যে ছিনতাইয়ের অভিযোগে থানায় হাজির হয়েছিলেন, তদন্তে জানা গেছে — এটি ছিলো পূর্বপরিকল্পিত একটি প্রতারণা।
শনিবার (৫ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে কর্ণফুলী থানায় হাজির হয়ে সেলিম অভিযোগ করেন, চরপাথরঘাটা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শাককুর বাড়ির সামনে থেকে চারজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি একটি সিএনজিতে এসে তার কাছ থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ব্যাগে ছিল গ্যাস কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং নগদ টাকা। তিনি তখন একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায় বাংলা বাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাটিকে ছিনতাই হিসেবে নিলেও, ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক ও সেলিমের বয়ানে অসামঞ্জস্যতা পায়। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেলিমকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এতে বেরিয়ে আসে আসল কাহিনি।
সেলিম স্বীকার করে নেন যে, তিনি অতিরিক্ত টাকা অফিস থেকে নিজে নিয়ে যান এবং কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বের হন। অথচ কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী, অতিরিক্ত টাকা নিয়ে চলাচলে নিরাপত্তাকর্মী থাকা বাধ্যতামূলক। তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। মামলাটি প্রথমে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা চললেও পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়।
৬ এপ্রিল কর্ণফুলী থানা পুলিশ সেলিমকে গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে কর্ণফুলী থানায় মামলা রুজু হয়, যার ধারা ৪০৮/৪০৬/৪২০ পেনাল কোড অনুযায়ী প্রতারণা ও আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, “ছিনতাইয়ের নামে প্রতারণা ও আত্মসাতের বিষয়টি আমরা তদন্ত করে নিশ্চিত হই। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”



