
চট্টগ্রাম কর্ণফুলীতে গ্যাস কোম্পানির টাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্যময় পরিস্থিতি। অভিযোগ, চরপাথরঘাটা এলাকার শাক্কুর বাড়ি সড়কে এক যুবকের কাছ থেকে ব্যাগ ছিনতাই হয়, যাতে কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র এবং লক্ষাধিক টাকা ছিল। তবে দিনের শেষে সেই ঘটনা রূপ নেয় নাটকীয় মোড়ে—যেখানে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রূপ নেয় আত্মসাতের সম্ভাবনায়।
শনিবার (৫ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে সেলিম (২৫) নামের এক যুবক কর্ণফুলী থানায় অভিযোগ করেন, তিনি বিন হাবিব গ্যাস কোম্পানির টাকা ও কাগজপত্রসহ একটি ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথে চারজন ব্যক্তি একটি সিএনজি অটোরিকশায় এসে তাঁর ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। তিনি ঘটনার সময় ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে মৌলভীবাজার ফ্যাক্টরি থেকে বাংলা বাজার ঘাটের দিকে যাচ্ছিলেন বলে জানান।
ঘটনার পরপরই কর্ণফুলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং ব্যাটারি চালিত রিকশার চালকসহ সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে সেলিমের ও রিকশাচালকের বক্তব্যে বেশ কিছু অমিল ধরা পড়ে। পুলিশ তখন সেলিমকে আবারো জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ঘটনার পুরো চিত্র বদলে যেতে থাকে। সেলিম তার বক্তব্য পাল্টে জানায়, সে নিজেই টাকা হারিয়েছে এবং কোম্পানিকে ক্ষতিপূরণ দিতে প্রস্তুত।
পরে জানা যায়, সেলিম গ্যাস কোম্পানি থেকে অতিরিক্ত টাকা নিজের ইচ্ছায় নিয়ে বের হন এবং সেই টাকার নিরাপত্তায় কোনো গার্ড রাখেননি। কোম্পানির নীতিমালা অনুযায়ী বড় অঙ্কের অর্থ পরিবহনে নিরাপত্তা থাকা বাধ্যতামূলক। কোম্পানির নির্বাহী পরিচালক সালমান বিন হাবিব অভিযোগ করেন, “সেলিম আমাদের অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত টাকা নিয়ে বের হয়েছে। হেড অফিসের কথা বলে সে আমাদের ট্রান্সপোর্ট অফিসার তজমুলের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। পুরো বিষয়টি সন্দেহজনক।”
এদিকে, সেলিম থানায় উপস্থিত সবার সামনে টাকার দায় স্বীকার করে জানায়, সে ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি। সেলিমের পিতা আলী আলম ৬ শতক জমি বিক্রি করে সেই টাকা পরিশোধের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি সমাধানের জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন। উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতার জন্য স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তির প্রক্রিয়া চলছিল।
তবে নাটকীয় মোড় নেয় তখনই, যখন চরপাথরঘাটা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ আহমদ থানায় উপস্থিত হয়ে উচ্চস্বরে অভিযোগ করেন, “জোরপূর্বক গ্যাস কোম্পানি জায়গা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।” তাঁর এমন হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মূহুর্তের মধ্যে থানার সামনে জড়ো হয় লোকজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার গেট বন্ধ করে দেয় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা।
পরিস্থিতি শান্ত হলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এবং কোম্পানির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থানায় ছিনতাইয়ের মামলা রুজু প্রক্রিয়া চলমান।
কর্ণফুলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ জানান, “বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। থানায় লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। তদন্তে যেই দোষী সাব্যস্ত হবে, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার ঝড় বইছে—এটা কি ছিল নিছক একটি ছিনতাই, নাকি পূর্বপরিকল্পিত আত্মসাতের চেষ্টা? তদন্তের অগ্রগতি বলবে প্রকৃত সত্য।



