
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভুল চিকিৎসায় কিশোর ইফতেখারের (১২) মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ইফতেখার হাইলধর ইউনিয়নের মাইজপাড়ার নাজিম চেয়ারম্যান বাড়ির ইসহাক মিয়ার ছেলে এবং পীরখাইন মৌলানা আসরাফ আলী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবচেয়ে ছোট।
পরিবারের দাবি, ছোটবেলা থেকেই শ্বাসকষ্টে ভুগলেও নিয়মিত চিকিৎসায় সে অনেকটা স্বাভাবিক জীবন যাপন করছিল। গত সপ্তাহেও একই সমস্যা নিয়ে সে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে। কিন্তু বুধবার সকালে একই সমস্যায় আবারও হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালের বহিঃবিভাগে শিশুবিশেষজ্ঞ তাকে ভর্তি করার পরামর্শ দেন। পরবর্তীতে সকল ওষুধপত্র সংগ্রহ করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ভর্তি হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসকরা ভুল ইনজেকশন প্রয়োগ করেন, যার কিছুক্ষণ পরেই ইফতেখার নিথর হয়ে পড়ে।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত পিতা ইসহাক মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে হাঁটতে হাঁটতে হাসপাতালে গেল, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কফিনে করে বাড়ি ফিরলো। ওদের ভুলেই আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে।”
এ বিষয়ে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাহতাব হোসেন বলেন, “ছেলেটি এজমা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। হাসপাতালে আনার সময় তার অবস্থা গুরুতর ছিল। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। তবে বিষয়টি নিয়ে পরিবার যে অভিযোগ তুলেছে, তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অনেকে অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালে শিশু রোগীদের চিকিৎসায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই এবং চিকিৎসকদের গাফিলতির কারণে প্রায়ই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে থাকে। ইফতেখারের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



