
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী-কে ঘিরে তেলবাহী লাইটার জাহাজে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পারাপার সেবায় নিয়োজিত সাম্পান শ্রমিকরা তাদের অধিকার রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দীর্ঘদিনের এই পেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট তাদের বৈধ কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করছে এবং নানা ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির মাধ্যমে তাদের জীবন-জীবিকাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডাঙ্গারচর ও পতেঙ্গা ওয়েল ট্যাংকার কর্মচারী পারাপার সাম্পান শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সরকার স্বীকৃত (রেজি নং-২৩৭০) এই সংগঠনের নেতারা জানান, কর্ণফুলী নদীর ৭ নম্বর ঘাট থেকে ১১ নম্বর ঘাট পর্যন্ত এলাকায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে সাম্পান শ্রমিকরা লাইটার জাহাজে কর্মরতদের পারাপার, জাহাজে রশি বাঁধা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে আসছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, আরএম-৩ ও আরএম-৪সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাইটার জাহাজে তারা নিয়মিত সেবা দিয়ে থাকেন। প্রতিদিন নদীর উত্তাল স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও তারা ন্যায্য স্বীকৃতি বা নিরাপত্তা পাচ্ছেন না। এই পেশার ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৩০০টি পরিবার এবং প্রায় এক হাজার শ্রমিক ও তাদের স্বজন বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, “খাজা শিপিং লাইন (রায়হান এন্টারপ্রাইজ) সি লিঃ” নামের একটি সিন্ডিকেট তাদের কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ করছে। সিন্ডিকেটের সদস্যরা জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান, মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়া এমনকি শারীরিক নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। তারা আরও জানান, শ্রমিকদের ধরে নিয়ে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তেল চোর’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, যা তাদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করছে।
সংবাদ সম্মেলনে রায়হান, মো. শাহানুর ও সাজ্জদসহ ১০-১২ জনকে এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত চাঁদা দাবি, কাজ বন্ধের হুমকি, হামলা ও প্রাণনাশের ভয় দেখানোর অভিযোগ তোলা হয়।
শ্রমিকরা জানান, এর আগে একাধিকবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন, ইপিজেড থানা, নৌ-পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের ওপর চাপ ও নির্যাতন আরও বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিক ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওসমানসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা অবিলম্বে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের বৈধ পেশা নির্বিঘ্নে পরিচালনার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শ্রমিক নেতাদের মতে, কর্ণফুলী নদীকেন্দ্রিক এই ঐতিহ্যবাহী পেশা আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু শ্রমিকদের জীবন-জীবিকাই নয়, বরং নদীকেন্দ্রিক এই গুরুত্বপূর্ণ সেবাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
* বিজ্ঞপ্তি



