
চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া থানাধীন মিয়াখান নগর এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী সন্ত্রাসী গ্রুপকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছেন। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে মিয়াখান নগরের ময়দার মিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা সবাই সাধারণ পথচারী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আহতরা হলেন—মো. হাসান, জসিম, ইসমাইল মিয়া এবং ১২ বছর বয়সী ফাহিম। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের শরীরে ছররা গুলির আঘাত রয়েছে এবং তারা চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সন্ত্রাসী মোরশেদ খান গ্রুপ এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুস সোবহান গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শনিবার রাতে এ দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছালে মোরশেদ খান গ্রুপের সদস্যরা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে শটগান দিয়ে গুলি ছোড়ে এবং হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়েও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে হামলার সময় প্রতিপক্ষ গ্রুপের কোনো সদস্য আহত না হলেও ঘটনাস্থলের আশপাশে থাকা সাধারণ মানুষ গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে একজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক এবং একজন ময়দার মিলের কর্মচারীও রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আকস্মিক গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করে। তবে মূল অভিযুক্ত মোরশেদ খান ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, মোরশেদ খান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং সম্প্রতি এলাকায় ফিরে আসেন। তিনি নিজেকে বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দিলেও বর্তমানে তার কোনো সাংগঠনিক পদ নেই। নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত ৩০০ সন্ত্রাসীর তালিকায় তার নাম রয়েছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোরশেদ খানের পাঁচ অনুসারীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে নিরীহ পথচারীদের ওপর সন্ত্রাসীদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা দ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার এবং এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।



