সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কঠোর অভিযান, কর্ণফুলীতে বিপুল জাল জব্দ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ জাল জব্দ ও ধ্বংস করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী এবং মৎস্য...

ধুঁকে ধুঁকে টিকে আছে হালখাতার ঐতিহ্য

প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের অন্যতম ঐতিহ্য ছিল হালখাতা। নববর্ষের দিনটিকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীরা পুরোনো দেনাপাওনার হিসাব চুকিয়ে নতুন খাতা খোলার মাধ্যমে নতুন বছরের যাত্রা শুরু করতেন। এক সময় হালখাতা ছিল উৎসবমুখর একটি অনুষঙ্গ, বিশেষ করে গ্রামগঞ্জ ও নগরাঞ্চলের ব্যবসায়ী সমাজে। সময়ের পরিবর্তনে প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রভাবে এই ঐতিহ্য অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারপরও টিকে আছে ধুঁকে ধুঁকে, বিশেষ করে পুরান ঢাকার কিছু এলাকায়।

মোগল সম্রাট আকবর বাংলা সনের প্রচলন করেন মূলত কৃষির সুবিধার্থে। সেই কৃষিভিত্তিক সমাজেই হালখাতার সূচনা। কৃষকেরা সারা বছর বাকিতে জিনিসপত্র কিনতেন, আর ফসল বিক্রির মৌসুমে নববর্ষে এসে দেনা পরিশোধ করতেন। ব্যবসায়ীরা এই সময় নতুন খাতা খুলে আগের হিসাব চুকিয়ে দিতেন। খাতাগুলো লাল কাপড়ে মোড়ানো হতো, খাওয়ানো হতো মিষ্টি-মিঠাই। হালখাতা হয়ে উঠেছিল নববর্ষের এক সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ।

তবে এখন আর আগের মতো নেই সেই জৌলুশ। নগদ লেনদেন, ব্যাংকিং সেবা এবং অনলাইনের দাপটে ব্যবসায়ীরা আগের মতো খাতা-কলমে হিসাব রাখেন না। তরুণ প্রজন্মের অনেক ব্যবসায়ী হালখাতার ধার ধারেন না। তারপরও পুরান ঢাকার তাঁতীবাজার, শ্যামবাজার, চকবাজার, বাদামতলী, ইসলামপুর—এসব এলাকায় এখনো কিছু ব্যবসায়ী হালখাতার ঐতিহ্য টিকিয়ে রেখেছেন।

তাঁতীবাজারের ব্যবসায়ী মিলন ঘোষ জানান, ‘আমরা এখনো নববর্ষে হালখাতা করি। ১৪ এপ্রিল সরকারিভাবে হালখাতা হয়, আর ১৫ এপ্রিল পূজা দিয়ে ধর্মীয় রীতি মেনে অনুষ্ঠান করি। কাস্টমাররা আসে, তাদের মিষ্টি মুখ করানো হয়, উপহার দেওয়া হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত কয়েক বছর করোনাভাইরাস ও ঈদের ছুটির কারণে তেমন আয়োজন হয়নি। এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো।’

একসময় দেশের নানা প্রান্তে হালখাতার উপলক্ষে দোকান সাজানো, বকেয়া পরিশোধ, উপহার বিতরণসহ নানা আয়োজন হতো। এখন অনেক জায়গায় তা খুব সীমিত আকারে হচ্ছে। তারপরও পুরান ঢাকায় এই রীতি এখনো টিকে আছে বলেই নববর্ষে সেই পুরোনো ঐতিহ্যের স্বাদ কিছুটা হলেও পাওয়া যায়।

সময় বদলেছে, সমাজ বদলেছে, বদলে গেছে ব্যবসা-বাণিজ্যের ধরণ। কিন্তু হালখাতা নামক ঐতিহ্যটা এখনো টিকে আছে কিছুটা আবেগ, কিছুটা রীতি আর কিছুটা স্মৃতির টানে।