
দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্ন পূরণে বড় এক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-রোড সেতু নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তরের স্মারক ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এই নির্মাণযাত্রার সূচনা করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরুর মধ্য দিয়ে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ কালুরঘাট সেতুর বিকল্প হিসেবে আধুনিক এক স্থাপনা নির্মাণের দ্বার উন্মোচিত হলো।
চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৌঁছালে অধ্যাপক ইউনূসকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর তিনি যোগ দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তনে। সেতুর উদ্বোধনের সময় স্মারক ফলকে উদ্বোধনকারীর নাম না থাকা নিয়ে আলোচনা থাকলেও মূল গুরুত্ব পেয়েছে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি ও অগ্রগতি।
রেলওয়ের তথ্যমতে, বর্তমানে কালুরঘাটে যে সেতুটি আছে তা ১৯৩১ সালে নির্মিত। এটি বহু আগেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয় এবং একাধিকবার সংস্কার করা হলেও যান চলাচলে সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। ভারী যানবাহন চলতে না দেওয়ায় ফেরির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে, আর একমুখী সেতু হওয়ায় প্রতিনিয়ত যানজটে পড়ছেন যাত্রীরা।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর একনেক সভায় সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে নির্মাণকাজ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের মধ্যে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ রেলওয়ে, এবং ইতোমধ্যেই প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরীকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের জন্য এই সেতু শুধু একটি কাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং এটি হয়ে উঠবে একটি অর্থনৈতিক প্রবাহ ও জনজীবনের গতির প্রতীক।



