সোমবার, এপ্রিল ২০, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

শিশুদের সুরক্ষায় কর্ণফুলীতে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম শুরু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে শুরু হয়েছে হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চরলক্ষ্যা এলাকার স্টুডেন্ট...

সাংবাদিকদের হয়রানি ও স্বাধীনতা সংকটে চট্টগ্রামের গণমাধ্যম

চট্টগ্রামে সম্প্রতি সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের হুমকি ও হয়রানির ঘটনায় স্থানীয় গণমাধ্যম মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশার টোকেন বাণিজ্য নিয়ে জাতীয় টেলিভিশনে প্রচারিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হাসিব আজিজ সংবাদ মাধ্যমকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন। একই দিনে দায়িত্ব পালনের সময় ডবলমুরিং থানায় দুই সাংবাদিককে হেনস্তা এবং একজনকে আটক করার অভিযোগ উঠে। এসব ঘটনায় সাংবাদিক সমাজ মনে করছে, পুলিশের এই আচরণ সরাসরি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।

১৯ আগস্ট চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার এমদাদুল হক চট্টগ্রামে ব্যাটারিচালিত রিকশার টোকেন বাণিজ্য নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রচার করেন। প্রতিবেদনে দেখা যায়, পুলিশ সদস্যরা অবৈধভাবে রিকশা আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিচ্ছেন, যা সরকারি কোষাগারে জমা না হয়ে চলে যাচ্ছে কর্মকর্তাদের পকেটে। তবে এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জবাবে সিএমপি কমিশনার এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটিকে “মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের পুলিশের কার্যালয়ে প্রবেশে অনুমতি নেয়ার নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রচার হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

এমন বক্তব্যে ক্ষুব্ধ সাংবাদিক এমদাদুল হক বলেন, “আমার কাছে প্রমাণ রয়েছে—পুলিশ অবৈধভাবে রিকশা ধরে টাকা নিচ্ছে, আবার টাকা নিয়ে ছেড়ে দিচ্ছে। অথচ ব্যবস্থা নেয়ার বদলে আমাদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।” চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দও কমিশনারের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং বলেন, একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে এমন ভাষা ব্যবহার অনভিপ্রেত। তারা কমিশনারকে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।

এদিকে একই দিনে ডবলমুরিং থানার সামনে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে দৈনিক আজকের পত্রিকার রিপোর্টার আব্দুল কাইয়ুম ও যায়যায়দিনের সাংবাদিক মো. মাসুম হয়রানির শিকার হন। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিক পরিচয় দেয়ার পরও থানার ওসি বাবুল আজাদ তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন এবং মো. মাসুমকে প্রায় ২০ মিনিট লকআপে আটকে রাখেন। ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে নতুন করে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

যদিও এ বিষয়ে সিএমপি মুখপাত্র মাহমুদা বেগম জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ডিসি বিষয়টি সমাধান করেছেন। তবে কমিশনারের হুঁশিয়ারি নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। সাংবাদিক সমাজ বলছে, পুলিশের এই আচরণ শুধু হয়রানি নয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকটে ফেলার সামিল। তারা মনে করেন, সংবাদ নিয়ে আপত্তি থাকলে আইনের পথে সমাধান খোঁজা যেত, কিন্তু সাংবাদিকদের আটক ও হুমকি দেয়া গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।