
চট্টগ্রাম আনোয়ারায় ঈদের দিন সকালে রান্নার সময় শাড়িতে আগুন লেগে দগ্ধ হয়ে ঊর্মি আকতার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে বেলা ১১টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের খাসখামা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ঊর্মি আকতার হাইলধর ইউনিয়নের ১ নম্বর খাসখামা ওয়ার্ডের রাজমিস্ত্রী বাঁচা মিয়ার স্ত্রী এবং চাতরী ইউনিয়নের ডুমুরিয়া রূদুরা গ্রামের মো. সেলিমের মেয়ে। তার বিয়ের বয়স প্রায় দেড় বছর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সকালে নতুন শাড়ি পরে রান্নাঘরে কাজ করছিলেন ঊর্মি। এ সময় চুলার আগুন শাড়িতে লেগে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় তিনি চিৎকার করে রান্নাঘর থেকে বের হয়ে আসেন। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। আগুন নেভাতে গিয়ে স্বামী নঈম উদ্দিন ও চাচাতো দেবরও আহত হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় ঊর্মিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর রাত ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ নেই। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঈদের আনন্দ মুহূর্তেই শোকে পরিণত হয়েছে। সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও রাত ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ বাবার বাড়ি ডুমুরিয়ায় নেওয়া হয়েছে।”
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা বলছেন, গ্যাস চুলা বা খোলা আগুনের আশপাশে কাজ করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা আর না ঘটে।



