
কক্সবাজার পৌরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের কলাতলী এলাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনকে কেন্দ্র করে ভাই-বোনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বড় ভাই হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা, মামলা চলাকালে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়াসহ বিষয়টি দীর্ঘায়িত করার অভিযোগ করেছেন তার ভাই-বোনেরা।
অভিযোগকারীদের দাবি, পৈতৃক সম্পত্তিতে নিজেদের আইনগত অংশ বুঝে পাওয়ার জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করলেও বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে তারা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বর্তমানে সম্পত্তি নিয়ে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারীরা হলেন শাহরিয়াদ কবির ইমন, হুমায়ারা নাসরিন সুমি, জান্নাতুল হায়াত হোসনা, নাছিমা খানম ও নিলুফা খানম। তারা মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিম ও মরহুমা রোকেয়া বেগমের সন্তান। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর দুই ভাই ও পাঁচ বোন ওয়ারিশ হিসেবে পৈতৃক সম্পত্তির অংশীদার হন। তাদের মধ্যে শাহরিয়াদ কবির ইমন ও হুমায়ারা নাসরিন সুমি সে সময় নাবালক ছিলেন।
সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মরহুম আলহাজ্ব মোহাম্মদ নাসিমের নামে শাহআমানত হ্যাচারি ও থাই বাংলা হ্যাচারি নামে দুটি স্থাবর সম্পত্তি ছিল। পরবর্তীতে থাই বাংলা হ্যাচারির নাম পরিবর্তন করে শাহজালাল হ্যাচারি করা হয়।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৫০ গন্ডা বা ৭ দশমিক ৫ কানি। এ সম্পত্তির বিষয়ে মরহুম মোহাম্মদ নাসিমের নামে বিএস খতিয়ান নম্বর ৩৬১২/৩৬৪৮ চূড়ান্তভাবে প্রচারিত রয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।
অভিযোগকারীরা জানান, বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর ভাই-বোনদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের বিষয়টি সামনে আসে। তারা নিজেদের অংশ বুঝে পাওয়ার জন্য বড় ভাই হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেন। তাদের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে সম্পত্তি ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তারা জানতে পারেন, তাদের নামে কোনো সম্পত্তি নেই এবং তারা নাকি নিজেদের অংশ হুমায়ুন কবিরের কাছে দিয়ে দিয়েছেন।
তবে অভিযোগকারীরা এ দাবি অস্বীকার করে বলেন, তারা কখনো স্বেচ্ছায় তাদের পৈতৃক সম্পত্তির অংশ বড় ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করেননি।
আদালতে একাধিক মামলা
সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে শাহরিয়াদ কবির ইমনের মামলা নম্বর ১৩১৬/২১, নাসরিন হুমায়ারা সুমির মামলা নম্বর অপর ৩৭৬/২১, নাসিমা খানমের মামলা নম্বর অপর ৩৩৪/২১, নিলুফা খানমের মামলা নম্বর ১৩১৫/২১, জান্নাতুল হায়াত হোসনার মামলা নম্বর ২৪/১১ এবং আরেফা খানমের মামলা নম্বর ২৬/১১ ও ১৩১৬/২১।
অভিযোগকারীদের দাবি, মামলা দায়েরের পরও বিরোধের কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং মামলা চলমান থাকা অবস্থায় তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
হুমকি দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, সম্পত্তির অধিকার নিয়ে কথা বলায় তাদের বিভিন্ন সময় হুমকি দেওয়া হয়েছে। আদালতে মামলা চললেও বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা এবং শেষ পর্যন্ত কোনো সম্পত্তি না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের ভাষ্য, পরিবারের মধ্যে একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি। ফলে নিজেদের আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, হুমায়ুন কবির নিজে মামলায় হাজির না হয়ে সামশুল আলম নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মামলা পরিচালনা করছেন। তবে এ বিষয়ে সামশুল আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন অভিযোগকারীরা
অভিযোগকারীরা জানান, বর্তমানে হুমায়ুন কবির তার পরিবার নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছেন। পৈতৃক ওয়ারিশি সম্পত্তিতে নিজেদের আইনগত অধিকার ফিরে পেতে তারা আদালতের পাশাপাশি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি যেন আইন ও আদালতের মাধ্যমে সুষ্ঠুভাবে নিষ্পত্তি হয় এবং প্রকৃত ওয়ারিশরা তাদের প্রাপ্য অধিকার পান, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধকে কেন্দ্র করে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের বিষয়ে তার পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগকারীরা বলছেন, তারা কোনো সংঘাত চান না। আদালতের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি এবং পৈতৃক সম্পত্তিতে প্রকৃত ওয়ারিশদের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করাই তাদের মূল দাবি। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি ন্যায়সংগত সমাধান হবে।



