
‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের বইমুখী করতে শুরু হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে জেলার ‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ কর্মসূচির আওতায় নবীনগর পৌর এলাকার নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ।
সোমবার সকালে জেলা প্রশাসকের এই সফরকে ঘিরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন জেলা প্রশাসক এবং নিয়মিত বই পড়ার গুরুত্ব, জ্ঞান অর্জন ও নিজেদের চিন্তাশক্তি বিকাশের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, ইতিহাস, বিজ্ঞান, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই মানুষের চিন্তার জগৎকে সমৃদ্ধ করে এবং একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে পাঠাভ্যাস। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা গেলে তাদের জ্ঞান, চিন্তা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বাড়বে। একই সঙ্গে তারা দেশ, সমাজ ও বিশ্বের নানা বিষয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা অর্জন করতে পারবে।
সেরা পাঠকের খোঁজে’ চার লক্ষ্য
‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে চারটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো নিয়মিত পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞান ও চিন্তাশক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষতা বাড়ানো, জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠন এবং সমাজে একটি শক্তিশালী পাঠ সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা।
জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বই পড়াকে পরীক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে না দেখে জীবনের একটি নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে নিতে হবে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বই পড়ার জন্য বরাদ্দ রাখলে ধীরে ধীরে সেই অভ্যাস জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।
তিনি আরও বলেন, একজন ভালো পাঠক শুধু বেশি বই পড়ে না, পড়া বিষয় নিয়ে চিন্তা করে, প্রশ্ন করে এবং নিজের জ্ঞানকে বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর চেষ্টা করে। তাই শিক্ষার্থীদের বই পড়ার পাশাপাশি পাঠ থেকে অর্জিত জ্ঞান নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।
শিক্ষার্থীদের মাঝে পাঠাভ্যাস তৈরির আহ্বান
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি নিয়মিত জ্ঞানমূলক ও সাহিত্যধর্মী বই পড়ার পরামর্শ দেন।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের জ্ঞান যত সমৃদ্ধ হবে, দেশও তত বেশি সমৃদ্ধ হবে। একটি সুন্দর, দক্ষ ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গড়তে হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
‘বই পড়ি, দেশ গড়ি’ এই বার্তাকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে পাঠাভ্যাস তৈরির এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত
জেলা প্রশাসকের সফরকালে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মো. আবু তালেব, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আল মামুন, নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা।
এ সময় মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাঠাভ্যাস বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বই পড়ায় উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়।
সেরা পাঠক নির্বাচনের উদ্যোগ
‘সেরা পাঠকের খোঁজে’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা নিয়মিত বই পড়ছে এবং পাঠের মাধ্যমে নিজেদের জ্ঞান ও চিন্তার জগৎ সমৃদ্ধ করছে, তাদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।
একজন শিক্ষার্থী যখন অন্য একজনের বই পড়ার অভ্যাস ও জ্ঞানচর্চা দেখে অনুপ্রাণিত হবে, তখন ধীরে ধীরে একটি প্রতিষ্ঠানের গণ্ডি পেরিয়ে তা পুরো সমাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এর মাধ্যমে বইকেন্দ্রিক একটি নতুন পাঠ সংস্কৃতি গড়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
নবীনগরের নারায়ণপুর ডিএস কামিল মাদ্রাসায় জেলা প্রশাসকের এই সফরও সেই বৃহত্তর উদ্যোগেরই অংশ। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রশাসনের এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার আগ্রহ আরও বাড়বে এবং ভবিষ্যতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গড়ে উঠবে জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাসে সমৃদ্ধ একটি প্রজন্ম।



