বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কর্ণফুলীতে পল্টন ট্র্যাজেডি দিবসে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনে সংঘটিত রাজনৈতিক সহিংসতার বিচার দাবিতে চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখা। বুধবার (২৮...

নবীনগর নির্বাচন অফিসে আকস্মিক এমপির পরিদর্শন

দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর নির্দেশ
কবির হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষাপটে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান। পূর্বঘোষণা ছাড়াই তাঁর এই উপস্থিতিতে নির্বাচন অফিসজুড়ে সৃষ্টি হয় চাঞ্চল্য, আর সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মাঝে দেখা দেয় স্বস্তি ও আশার সঞ্চার।

মঙ্গলবার (তারিখ) সকাল প্রায় ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান সরাসরি উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং নতুন ভোটার নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।

দীর্ঘদিন ধরে নবীনগর উপজেলা নির্বাচন অফিসের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন সেবাপ্রত্যাশীরা। তাদের ভাষ্য, দালাল ছাড়া কোনো কাজই সহজে হয় না। নতুন ভোটার নিবন্ধনের জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে গেলেও অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। কেউ অনলাইনে আবেদন করলেও টাকা না দিলে দিনের পর দিন অপেক্ষা করতে হয়, আর অর্থ দিলে পরদিনই কাজ সম্পন্ন করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিটি ফিঙ্গারপ্রিন্টের জন্য আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। আবার যাদের বয়স সংক্রান্ত জটিলতা থাকে, তাদের কাছ থেকে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে নির্বাচন অফিসের ভেতরের চেয়ে বাইরে দালালদের প্রভাব বেশি বলেই মনে করেন অনেক ভুক্তভোগী।

পরিদর্শনের সময় এক প্রবাসী নাগরিক সংসদ সদস্যের কাছে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেন। অভিযোগ শোনার পরই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন এমপি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনো প্রবাসী নাগরিক হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।

এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রবাসীদের জন্য একটি পৃথক ‘প্রবাসী সেবা ডেস্ক’ চালুর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতাদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করারও নির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা স্বপন কুমার ভৌমিককে উদ্দেশ করে এমপি অ্যাডভোকেট এম এ মান্নান বলেন,

“নতুন ভোটার নিবন্ধন, এনআইডি সংশোধন কিংবা যেকোনো সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন। জনগণের সঙ্গে অসদাচরণ কিংবা দালালের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। জনবান্ধব পরিবেশে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, সরকারি অফিস জনগণের সেবার জন্য। সেখানে দালালচক্রের কোনো স্থান নেই। যদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমপির আকস্মিক উপস্থিতিতে নির্বাচন অফিসে অপেক্ষমাণ অনেক সেবাগ্রহীতা নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ পান। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত থাকলে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা পাবেন।

একাধিক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তির কারণে নির্বাচন অফিসে যেতে সাধারণ মানুষ ভয় পেতেন। জনপ্রতিনিধির সরাসরি তদারকি ভবিষ্যতে সেবার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

পরিদর্শনের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ হোসেন রাজু, পল্লী উন্নয়ন সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম কাজী সুমন, গোলাম হোসেনসহ নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সরকারি সেবা নিয়ে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে এমন আকস্মিক পরিদর্শন এবং জবাবদিহিমূলক কার্যক্রম আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাদের মতে, নির্বাচন অফিসের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দালালচক্রের প্রভাব বন্ধ করে স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।