মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, কর্ণফুলীতে প্রবল স্রোত

চট্টগ্রামের রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে জলকপাট খুলে দেওয়ার পর...

জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ে কঠোর শাস্তি, নতুন আইন পাস জাতীয় সংসদে

অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর কারাদণ্ড, ৫ কোটি টাকা জরিমানা; ভিপিএন, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও জুয়ার বিজ্ঞাপনও আইনের আওতায়

দেশে প্রচলিত প্রায় ১৫৯ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ বাতিল করে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’। নতুন এই আইনে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়া, ভিপিএন ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, জুয়ার বিজ্ঞাপনসহ প্রযুক্তিনির্ভর নানা অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। এর আগে গত ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়।

নতুন আইনে জুয়া-সংক্রান্ত ২৪টি বিষয় সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং, বাজিকর (বুকমেকার), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইটসহ আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন মাধ্যম। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং অনলাইন বেটিং পরিচালনা বা অংশগ্রহণের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কিংবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন।

নতুন আইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী কিংবা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে।

ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস কিংবা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আর ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে সংঘবদ্ধভাবে জুয়া পরিচালনা কিংবা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।

আইনে আরও বলা হয়েছে, জুয়ার অর্থ ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা-হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর আওতায় সম্পৃক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আদালত প্রয়োজন হলে ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম ও অন্যান্য সম্পদ জব্দ বা ফ্রিজ করার নির্দেশ দিতে পারবেন।

এ ছাড়া সরকার জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ ও ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম ব্লক বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। অনলাইন জুয়া ও সাইবারভিত্তিক অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং আইনের আওতাধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।

বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে অনলাইন জুয়া, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি ও অর্থপাচারের মতো অপরাধ দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং তরুণ সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে। এ বাস্তবতায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় যুগোপযোগী আইনি কাঠামো গড়ে তুলতেই নতুন আইনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।