
গতকাল শুক্রবার (১৫ আগস্ট) সকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর কর্ণফুলী থানা এলাকার শিকলবাহা ক্রসিংয়ে সেনাবাহিনী ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ অভিযানে অনটেস্ট সিএনজি অটোরিকশা আটক করা হয়। ড্রাইভার মাহবুব নামের এক যুবক পর্যাপ্ত কাগজপত্র প্রদর্শনে ব্যর্থ হলে পুলিশ অটোরিকশাটি ট্রো করে ডাম্পিংয়ে পাঠায়। এ সময় কনস্টেবল রতন কুমার চাকমার কাছ থেকে চালক মাহবুবের সহযোগীরা জোরপূর্বক অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেয় এবং একপর্যায়ে কনস্টেবলকে মারধর করে। খবর পেয়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক সার্জেন্ট মহসিন সেনা সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আহত কনস্টেবল আলাউদ্দিন এক অভিযুক্তকে সনাক্ত করলে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তবে মূল আসামি মাহবুবকে না পেয়ে তারা আসামির ছোট ভাই আসাদ নূর (১৮) এবং সহযোগী প্রতিবন্ধী যুবক পারভেজ (২২) কে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর তিনটার দিকে আলাউদ্দিন নামের এক আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হলেও আসাদ নূর ও পারভেজকে ৩৩ ঘণ্টারও বেশি সময় থানা হেফাজতে আটকে রাখা হয়। আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে আদালতে হাজির করার বিধান থাকলেও এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ স্বজনদের। তারা দাবি করেন, মূল আসামি মাহবুবকে হাজির করার জন্য পুলিশ পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এমনকি ২০ হাজার টাকা আর্থিক লেনদেনের শর্তে আসাদ নূর ও পারভেজকে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানা ওসি মুহাম্মদ শরীফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে থানার সেকেন্ড অফিসার মিজানুর রহমান আটক রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাফিক পুলিশ ইন্সপেক্টর আবু সাঈদ জানান, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া ও কনস্টেবলকে আঘাত করার ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। মামলার বাদী ট্রাফিক সার্জেন্ট মহসিন। ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা হলেও বাকিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তার কাছে নেই বলে তিনি জানান।
শেষ সংবাদ পাওয়া পর্যন্ত রাত ৯ টায় মুচলেকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে ।
এদিকে আটক দুই যুবকের পরিবারের অভিযোগ, মূল আসামি পলাতক থাকা সত্ত্বেও অপ্রাসঙ্গিকভাবে তাদের আটকে রাখা হয়েছে এবং আদালতে প্রেরণ না করে নানা অজুহাতে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ফলে কর্ণফুলী থানার কর্মকাণ্ড নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।



