সোমবার, আগস্ট ৩, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, কর্ণফুলীবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওষুধের চেয়ে সচেতনতা,...

আবেদ গ্রেফতারে প্রতিবাদ তুঙ্গে

দৈনিক যুগান্তর ও পূর্বদেশের পটিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক আবেদুজ্জান আমিরীর (আবেদ) গ্রেফতার নিয়ে সাংবাদিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় তাকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করছেন তার সহকর্মী ও পরিবার।

বুধবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় র‌্যাবের একটি দল পটিয়ার থানার মোড় এলাকা থেকে আবেদকে আটক করে। পরে তাকে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার আদালতে তোলা হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় অসাধু চক্র তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে।

আবেদের স্ত্রী অ্যাডভোকেট শাহীন আক্তার বলেন, “আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখে আসছেন। এর জেরেই তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।”

বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। সাংবাদিক আবেদের গ্রেফতারের ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। অনেকে এটিকে ষড়যন্ত্রমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামের হালিশহর এলাকায় একটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় করা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী সাজ্জাদ আহমেদ সাদ্দাম ২০২৩ সালের একটি স্থানীয় বিরোধ এবং ২০২৪ সালের ‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন’ সংযোগ ঘটিয়ে গত বছরের ২০ আগস্ট হালিশহর থানায় এই মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় মোট ৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে, যেখানে আবেদ আমিরীর নাম ২৯ নম্বর আসামি হিসেবে রয়েছে।

তবে আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনার দিন ও সময় সাংবাদিক আবেদ হালিশহর এলাকায় ছিলেনই না। তার পরিবারের দাবি, উল্লেখিত তারিখে তিনি পটিয়ায় নিজের পেশাদারিত্ব কাজে নিয়োজিত ছিলেন, যা মোবাইল লোকেশন বিশ্লেষণ করলেই স্পষ্ট হবে। এমনকি মামলার বাদীও স্বীকার করেছেন যে তিনি আসামিকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন না।

সাংবাদিক আবেদ আমিরী কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রেফতারের ঘটনায় সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে।কর্ণফুলী প্রেসক্লাব

কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোর্শেদুর রহমান নয়ন বলেন, “সাংবাদিক আবেদ আমিরী ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করে আসছেন। দুর্নীতিবাজরা তার লেখালেখিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাকে গ্রেফতার করিয়েছে।”

দৈনিক তৃতীয় মাত্রা প্রতিনিধি ও কর্ণফুলী প্রেস ক্লাবের সদস্য ওসমান হোসেন জানান, “আবেদ আমিরী আপসহীন সাংবাদিক, তিনি সত্য লিখতেন বলেই প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তাকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।”

সাংবাদিক আবেদ আমিরী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত রিপোর্ট প্রকাশ করেছিলেন যা কিছু রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের জন্য অস্বস্তিকর ছিল। তার “১০ অক্টোবর যুবলীগ-যুবদল মিলে সাংবাদিকের অফিস ভাঙচুর”, “২৮ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী অনুকম্পায় পিপিএম পান ওসি নেয়ামত”, এবং “২৬ ফেব্রুয়ারি বিএনপি নেতার অনুরোধে আ. লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে ওসি” শিরোনামের প্রতিবেদনগুলো তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সাংবাদিক মহল মনে করছে।

সাংবাদিক সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে সাংবাদিক আবেদের মুক্তির জন্য আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে, হালিশহর থানার ওসি মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, “সাংবাদিক আবেদ আমিরী হালিশহর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। র‌্যাব তাকে আটক করে থানায় হস্তান্তর করেছে। আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়েছি।”

তবে র‌্যাবের সূত্র বলছে, “হালিশহর থানার অনুরোধেই আবেদ আমিরীকে আটক করা হয়েছে।”

অন্যদিকে, পুলিশের ফরোয়ার্ডিং রিপোর্টে আবেদ আমিরীকে ‘যুবলীগ নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এটি নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সাংবাদিক আবেদের গ্রেফতার শুধু একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায়ের উদাহরণ নয়, বরং এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার জন্য হুমকি। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করে বলছে, এই ধরনের ঘটনাগুলো স্বাধীন সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে এবং গণমাধ্যমের কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করবে।

সাংবাদিক নেতারা বলছেন, “সাংবাদিকতার সত্য প্রকাশের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি সাংবাদিকদের এভাবে ষড়যন্ত্রের শিকার হতে হয়, তবে তা পুরো গণমাধ্যমের জন্য এক অশুভ সংকেত।”