
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত কেইপিজেড (কর্ণফুলী ইপিজেড) শিল্প এলাকার ভেতরে দেয়াং পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পাখি ধরতে গিয়ে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিশু—রোহান (১২) ও মিজবাহ (১২)। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছে আরও দুই শিশু—সিয়াম (১১) ও সিফাত (১২)। বৃহস্পতিবার (১ মে) সকাল ১০টার দিকে কেইপিজেডের পুরাতন ইটের টিলা এলাকায় এই পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
নিহত রোহান আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা নুরুজ্জামানের বাড়ির রহিমের ছেলে এবং মিজবাহ একই এলাকার এমরানের ছেলে। আহত সিয়াম মুসতাকের এবং সিফাত হাশেমের ছেলে। তাদের সবাই স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী রাজু জানান, শিশুরা পাখি ধরতে গিয়ে পুরোনো টিলা এলাকায় ওঠে। টিলাটিতে আগে থেকেই শিল্প স্থাপনের জন্য একাধিকবার কাটাকাটি ও খননের কারণে মাটি ছিল আলগা ও ঝুঁকিপূর্ণ। একপর্যায়ে হঠাৎ ধসে পড়ে দেয়াং পাহাড়ের অংশবিশেষ, এতে চার শিশু চাপা পড়ে। তাদের উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোহান ও মিজবাহকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আহত অপর দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “উদ্ধার করে আনা চার শিশুর মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা গেছে বলে ধারণা করছি। আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেকে রেফার করা হয়েছে।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শিল্প উন্নয়নের নামে কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই এই এলাকায় পাহাড় কেটে টিলা সরিয়ে কারখানা নির্মাণ করছে। ফলে এলাকায় ভূপ্রকৃতি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। মাটি আলগা হয়ে যেকোনো সময় ধসে পড়ছে। নিয়ম না মেনে পাহাড় কাটা, ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও মনিটরিংয়ের অভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে এলাকায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভও প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও এ ঘটনায় শিল্প উন্নয়নের নামে পাহাড় ধ্বংস এবং জননিরাপত্তা উপেক্ষার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



