রবিবার, এপ্রিল ১৯, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কর্ণফুলীতে ফুটবল উৎসব, জমজমাট আয়োজনে গোল্ড কাপ টুর্নামেন্ট শুরু

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার চরলক্ষ্যা ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে “চরলক্ষ্যা আন্তঃ শহীদ জিয়া গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬”। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে...

বহু প্রতীক্ষার ভোট আজ: উৎসব, উত্তেজনা ও কড়া নজরদারিতে দেশ

শেষ হয়েছে দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর। আজ সেই বহু প্রতীক্ষিত দিন—ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হবে ভোট গ্রহণ। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় দেশের মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ, একই সঙ্গে রয়েছে উত্তেজনা ও নানা হিসাব-নিকাশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রভিত্তিক ব্যালট পেপার ও নির্বাচনী সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সম্পন্ন হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনেই তাদের সব আয়োজন।

রাজধানীসহ সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। কর্মজীবী মানুষ শহর ছেড়ে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় পৌঁছে গেছেন ভোট দেওয়ার জন্য। চার দিনের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকার বহু এলাকা। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের অলিগলিতে এখন একটাই আলোচনা—কে জিতবে এবারের নির্বাচনে? বিএনপি ও জামায়াত জোটের মূল নজর আওয়ামী লীগ, তরুণ ও নারী ভোটারের দিকে। বিভিন্ন জরিপে বিএনপি জোট এগিয়ে থাকলেও বহু আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে নিবন্ধিত ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে, ফলে ভোটের সমীকরণ হয়ে উঠেছে বহুমাত্রিক।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “স্বচ্ছতা আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। অনিয়ম বা অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধান করা হবে, কোনো অনিয়ম বরদাশত করা হবে না।” ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

সারা দেশের প্রায় অর্ধেক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসি ক্যামেরার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে বিমান বাহিনীর মানুষবিহীন বিমান (ইউএভি) দিয়ে আকাশপথে নজরদারি করা হবে। ভোটের লাইভ ফিড প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরেও প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে দিয়াশলাই, লাইটার ও দেশীয় অস্ত্র বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মোবাইল ফোন কেন্দ্রে নেওয়া গেলেও গোপন কক্ষে ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাথমিক চিকিৎসা দল মাঠে থাকবে। এছাড়া কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক রিপোর্ট ও দ্রুত সহায়তার জন্য চালু রাখা হয়েছে ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ অ্যাপ। প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা এ অ্যাপ ব্যবহার করবেন, যাতে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানো সম্ভব হয়।

এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন। সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা ২১ হাজার ৫০৬টি। দায়িত্ব পালন করছেন ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা।

পোস্টাল ভোটেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে। দেশে-বিদেশে প্রেরিত প্রায় ৯ লাখ পোস্টাল ব্যালটের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের হাতে পৌঁছেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত ব্যালটগুলো গণনা করা হবে বলে জানিয়েছে ইসি। একই সঙ্গে ৩৯৪ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও ১৯৭ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অংশ নিচ্ছেন, যা অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তবে শেষ মুহূর্তে কিছু এলাকায় গ্রেপ্তার, অর্থ জব্দ এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপও দেখা গেছে। ভোট গণনা ও ফল ঘোষণার স্বচ্ছতা নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শঙ্কা থাকলেও ইসি আশ্বাস দিয়েছে—প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বসহকারে দেখা হবে।

সব মিলিয়ে উৎসব, উত্তেজনা ও কঠোর নজরদারির মধ্যেই শুরু হলো দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এই মহাযজ্ঞ। আজকের ব্যালটেই নির্ধারিত হবে আগামী দিনের নেতৃত্ব এবং দেশের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা। এখন সবার চোখ ভোটকেন্দ্র ও ফলাফলের দিকে।