মঙ্গলবার, আগস্ট ৪, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে, কর্ণফুলীবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে ওষুধের চেয়ে সচেতনতা,...

বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাবেক এমপি টার্গেট

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে জানাজা শেষে সংঘর্ষের ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের ওপর হামলা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন দল ও নেতাকর্মীদের থেকে দূরে থাকা এই সাবেক এমপি হঠাৎ করেই রাজনৈতিক ময়দানে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়েন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে কর্ণফুলীর বড়উঠান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ডাকপাড়ায় জানাজার নামাজের পর এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে এই সংঘর্ষ বাঁধে।

সাবেক এমপি সরওয়ার জামাল নিজাম বলেন, ‘আমি জানাজার নামাজে অংশ নিতে গিয়েছিলাম। নামাজ শেষে গাড়িতে উঠতে গেলে কিছু লোক আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা এসএম মামুন মিয়া ও লায়ন হেলাল গ্রুপের অনুসারী।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘এই হামলায় আমার দুইজন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’

অন্যদিকে, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব লায়ন মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সাবেক এমপি নিজাম দীর্ঘদিন দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না। বিএনপির দুঃসময়ে যখন নেতাকর্মীরা মামলা-হামলার শিকার হয়েছে, তখন তিনি পাশে ছিলেন না। এখন হঠাৎ করেই মাঠে নামতে চাওয়ায় নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়েছে। জানাজার নামাজ শেষে উত্তেজিত জনতা তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে।’

কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এসএম মামুন মিয়া বলেন, ‘আমরা জানাজার নামাজ শেষ করে মোনাজাতের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তবে ওই সময় সাবেক এমপি সাহেব হয়তো চলে গেছেন। পরবর্তীতে রাস্তায় কিছু হামলার ঘটনা ঘটে, যা আমি জানি না। কারণ আমরা তখন জানাজার মাঠে ছিলাম। পরে জানতে পারি যে, সাংবাদিককেও মারধর করা হয়েছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে খবর পেয়েছি, যুবদলের শামীম তার লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সাংবাদিক মহি উদ্দিনকে রক্ষা করেছেন। পরবর্তীতে বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা সাংবাদিকের বাড়িতে খোঁজখবর নিতে গিয়েছে।’

এ বিষয়ে কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মো. ওসমান বলেন, ‘সাবেক এমপি নিজাম সাহেব জিপ গাড়িতে করে লোকজন নিয়ে এসেছিল এবং তাদের গাড়িতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ছিল। এ বিষয়ে ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ মিলবে। তারা সংঘর্ষ বাধাতে আনোয়ারার লোকজন এখানে এনেছিল। আর সাংবাদিক মহিউদ্দিনের বাসায় আমি গিয়েছি। বিষয়টি আমি দেখছি। জুয়েল নামে যে যুবক তার ওপর হামলা করেছে, তার খোঁজ খবর নিয়ে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেবো।’

সংঘর্ষের সময় সাংবাদিক মোঃ মহিউদ্দিন ছবি তুলতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কর্ণফুলী প্রেস ক্লাব ও স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।

কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফ বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলের প্রতি সাবেক নেতাদের অবস্থান নিয়ে কর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ থাকায় এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, যারা দলের সুদিনে সুযোগ নিয়েছেন, কিন্তু দুর্দিনে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন, তাদের আবার নেতৃত্বে আসার চেষ্টা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।