শুক্রবার, জুন ৫, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

১৯৯১-এর সেই বিভীষিকা আজও কাঁদায় উপকূল

আজ ২৯ এপ্রিল। ১৯৯১ সালের এই দিনে উপকূলীয় বাংলাদেশ সাক্ষী হয়েছিল এক প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের, যা ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। রাতের আঁধারে উপকূলে আছড়ে পড়া ২৫০ কিলোমিটার বেগের সেই ঝড়ের স্মৃতি আজও কাঁদায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্শ্ববর্তী দ্বীপাঞ্চলের মানুষকে। অরক্ষিত জনপদগুলোতে প্রাণহানির সংখ্যা সরকারি হিসেবে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজারে পৌঁছালেও, বেসরকারি হিসেবে এটি আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়। সেই সঙ্গে নিখোঁজ হয় আরও হাজার হাজার মানুষ, যাদের অনেকের মরদেহ আর কখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

ঘূর্ণিঝড়টির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক ছিল এর সঙ্গে আসা ২০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস, যা মুহূর্তেই প্লাবিত করে দেয় সন্দ্বীপ, মহেশখালী, হাতিয়া, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, আনোয়ারা ও পতেঙ্গার বিস্তীর্ণ এলাকা। শুধু সন্দ্বীপেই প্রাণ হারান প্রায় ২৩ হাজার মানুষ। উপকূলজুড়ে প্রায় ১০ লাখ ঘরবাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। নিঃস্ব হয়ে পড়ে প্রায় এক কোটি মানুষ। অনেক এলাকায় আজও মাটির নিচে ঘুমিয়ে আছেন সেই রাতের অগণিত অচিহ্নিত লাশ।

চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। শত টন ওজনের একটি ক্রেন উড়ে গিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে পড়ে, ধ্বংস হয় বহু জাহাজ ও জলযান। নৌ ও বিমানবাহিনীরও একাধিক যান হারিয়ে যায় অথবা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী কংক্রিট বাঁধ ভেঙে যায়, ভাসিয়ে নিয়ে যায় বহু বসতি।

৩৪ বছর পেরিয়ে গেলেও উপকূলের মানুষ এখনও ঘূর্ণিঝড়ের সংবাদ শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, ঘুম হারাম হয় রাত্রির। অনেক পরিবার আজও তাদের প্রিয়জনের হদিস জানে না। সেই ভয়াল রাতের স্মৃতি রয়ে গেছে তাঁদের হৃদয়ে অম্লান দুঃখ হয়ে।

দিনটির স্মরণে আজ চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় বিভিন্ন অঞ্চলে আয়োজিত হচ্ছে স্মরণসভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান। কেবল স্মরণ নয়, এই আয়োজনগুলোর মাধ্যমে উপকূলের মানুষ বারবার নতুন করে স্মরণ করিয়ে দেয়—দুর্যোগে তারা কতটা অরক্ষিত ছিল, এবং এখনো কতটা ঝুঁকিতে রয়েছে।

এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্মৃতি কেবল একটি দিনের নয়, এটি ইতিহাস হয়ে গেছে উপকূলবাসীর রক্তে, কাঁদে তারা প্রতিটি ২৯ এপ্রিলে, ভেতরে গুমরে কাঁদে এক একটি হারানো মুখ। ১৯৯১-এর সেই বিভীষিকা তাই শুধু অতীত নয়, প্রতিবারের নতুন শিক্ষা এবং সতর্কবার্তা হয়ে বারবার ফিরে আসে।