
২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা আজ বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে। তত্ত্বীয় এই পরীক্ষা চলবে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত, আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ১৫ মে থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২২ মে। এবার মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এই বিশাল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা পদক্ষেপ।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১০ এপ্রিল থেকে ১৩ মে পর্যন্ত দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ঠেকাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি এবং কেন্দ্রের আশপাশে ফটোকপি মেশিন বন্ধ রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চলতি বছরে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ লাখ ১ হাজার ৫৩৮ জন এবং ছাত্রী ৭ লাখ ৮৮ হাজার ৬০৪ জন। এছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন।
পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, নকল বা কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে না আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা রয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা নকলের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০’ ও ‘তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬’ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতা কামনা করেছে শিক্ষা বোর্ড। পরীক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, নিরাপদ পরিবেশ এবং নকলমুক্ত একটি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য চলমান এই ব্যবস্থা প্রশংসিত হয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে।



