
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে চট্টগ্রামে পৌঁছেছে বিশালাকৃতির উট। তবে এসব উটের উৎস নিয়ে তৈরি হয়েছে রহস্য ও বিতর্ক। অনুসন্ধানে জানা যায় যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানাধীন সীমান্তবর্তী পুটখালী গ্রামে সম্প্রতি গড়ে উঠেছে একটি ব্যতিক্রমী উট খামার, যেখানে সাতটি উট লালনপালন করা হয়েছে। খামার কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, এসব উট সৌদি আরব থেকে বৈধভাবে আমদানি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একটি উট ২৪ লাখ টাকায় বিক্রিও হয়ে গেছে, বাকি ছয়টি পাঠানো হচ্ছে চট্টগ্রামে।
তবে এলাকাবাসীর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ। অনেকেই ধারণা করছেন, উটগুলো ভারত থেকে চোরাইপথে আনা হয়েছে। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, খামারটির মালিক পুটখালীর আলোচিত ‘গোল্ড’ নাসির, যিনি সাবেক এমপি আফিল উদ্দিনের ঘনিষ্ঠ এবং অতীতে সোনা ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে একাধিকবার আটক হয়েছেন। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সীমান্তসংলগ্ন ইছামতি নদীর ওপারে ভারতের রাজস্থান থেকে উট এনে সীমান্ত পেরিয়ে খামারে তোলা হয়েছে। প্রশাসনের কাছে উট আমদানির বৈধতা যাচাইয়ের দাবিও তুলেছেন তারা।
খামারের ম্যানেজার ও শ্রমিকরা জানিয়েছেন, প্রতিটি উটের উচ্চতা ১২-১৫ ফুট এবং এগুলোকে নিয়মিত গোসল করানো হয়, খাওয়ানো হয় ছোলা, ভুট্টা ও ঘাস। খামারের এই আয়োজন এলাকাবাসীর মাঝে যেমন কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে, তেমনি প্রশাসনিক তদন্তেরও দাবি উঠেছে। শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খামারটি নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে এবং উটগুলোর উৎস যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে।
সীমান্তবর্তী এই খামার একদিকে যেমন দেশে পশুপালনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে, অন্যদিকে এর বৈধতা নিয়ে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন খুঁজে আনবে উটগুলোর প্রকৃত উৎস।



