বুধবার, জুলাই ২৯, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, কর্ণফুলীতে প্রবল স্রোত

চট্টগ্রামের রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে জলকপাট খুলে দেওয়ার পর...

পাহাড়ে পরিকল্পিত অস্থিরতার পেছনে মাইকেল চাকমার গোপন নেটওয়ার্ক

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি-শৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা ভেঙে দিতে নতুন করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে পার্বত্য শান্তিচুক্তিবিরোধী সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। সংগঠনটির অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নেতা মাইকেল চাকমা আবারও আলোচনায়। পাহাড়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, হত্যাকাণ্ড ও উসকানিমূলক রাজনীতির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরেই পার্বত্যাঞ্চলের জনগণের নিরাপত্তা, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনের কার্যক্রমে তিনি ও তার অনুসারীরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছেন বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ইউপিডিএফের দ্বিতীয় শীর্ষ (সেকেন্ড ইন কমান্ড) হিসেবে পরিচিত মাইকেল চাকমা পাহাড়ে সশস্ত্র তৎপরতা পরিচালনা ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সংগঠনের চাঁদা সংগ্রহ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি, উন্নয়ন প্রকল্প থেকে অর্থ আদায় এবং এসব অর্থ অস্ত্র কেনায় ব্যবহার— এমন এক জাল বিস্তার করেছেন তিনি। বিভিন্ন সূত্রের দাবি, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির নানা স্থানে ছদ্মবেশে পরিচালিত এই অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক থেকেই পাহাড়ে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডের মূল অর্থায়ন হয়।

তথ্য অনুযায়ী, মাইকেল চাকমার বিরুদ্ধে খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে। ২০০৭ সালে রাঙামাটির লংগদুতে চাঁদাবাজি ও অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হন তিনি। ২০১১ সালে জুরাছড়িতে নিরঞ্জন চাকমাসহ তিনজনকে গুলি করে হত্যার অভিযোগে তার নাম আসে আলোচনায়। পরবর্তীতে ২০১৮ সালে শক্তিমান চাকমা, তপন জ্যোতি চাকমা (বর্মা), বন কুসুম চাকমা ও মিশন চাকমা হত্যাকাণ্ডের মতো বহুল আলোচিত ঘটনাগুলোর সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। একাধিক মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণে দেখা যায়, মাইকেল চাকমা ইউপিডিএফ (মূল) দলের অপারেশনাল ইউনিটগুলোর নির্দেশদাতা হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তার দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাহাড়ে যে সহিংসতা, ধর্মীয় ও জাতিগত বিভাজন, তাতে মাইকেল চাকমার ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। তার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ সক্রিয়ভাবে পার্বত্য শান্তিচুক্তিকে অস্বীকার করে এবং ওই চুক্তিকে ‘বেঈমানি’ আখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক নারী নির্যাতন ইস্যু ঘিরে অরাজক পরিস্থিতি তৈরির পেছনে তার প্রত্যক্ষ নির্দেশ ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, গুমের শিকার হওয়ার পর পুনরায় আবির্ভূত হয়ে নিজেকে ভিকটিম হিসেবে উপস্থাপন করলেও এখন মাইকেল চাকমা সেই পরিচয় ব্যবহার করে দেশ-বিদেশে নতুন করে সংগঠন পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে ইউপিডিএফের কর্মকাণ্ডকে ‘অধিকার আন্দোলন’ হিসেবে প্রচার করছেন বলে গোয়েন্দা সংস্থার দাবি। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে, সেই তৎপরতা পাহাড়ে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড ও ভারতীয় স্বার্থের বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে।

একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা ফিরেছিল। কিন্তু মাইকেল চাকমার মতো নেতারা আবার সেই পরিবেশকে নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। তিনি চাঁদাবাজির অর্থে পাহাড়ে সন্ত্রাসের রাজনীতি টিকিয়ে রেখেছেন।”

স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে ইউপিডিএফের সশস্ত্র তৎপরতা পুনরুজ্জীবিত হওয়ার কারণে। সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ে সরকারি প্রকল্পে হামলা, ঠিকাদারদের কাছ থেকে অর্থ দাবি ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন বেড়ে গেছে। এর পেছনে মাইকেল চাকমার গোপন নেটওয়ার্কের হাত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, পাহাড়ে আবারও অস্থিরতা ফিরিয়ে আনার পেছনে মাইকেল চাকমা এক ‘মাস্টারমাইন্ড’। তার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ শুধু চাঁদাবাজি নয়, রাজনৈতিকভাবে সরকার ও শান্তিচুক্তির বিরোধী একটি অবস্থান তৈরি করে চলেছে। রাষ্ট্রবিরোধী এই কর্মকাণ্ডের লাগাম টানতে হলে এখনই তার গোপন নেটওয়ার্কের অর্থনৈতিক ও অস্ত্র সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া জরুরি— এমন মত দিয়েছেন অনেক নিরাপত্তা বিশ্লেষক।