
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার দেয়াং পাহাড়ে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে প্রবারণা পূর্ণিমা। সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠিত এই ধর্মীয় উৎসবে শতাধিক বৌদ্ধ ভক্ত ও অর্ধশতাধিক পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। সমবেত প্রার্থনা, পূজা-অর্চনা, কীর্তন ও ফানুস উড়িয়ে শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেন ভক্তরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র প্রবারণা পূজা ও পিন্ডি চরন। পরে বিহার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমবেত প্রার্থনা পরিচালনা করেন ভিক্ষু জয়সেন থের।সন্ধ্যায় বিহার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমবেত প্রার্থনা পরিচালনা করেন ভিক্ষু জয়সেন থের। তিনি প্রবারণা উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হিসেবে বলেন—
“প্রবারণা পূর্ণিমা আত্মশুদ্ধির উৎসব। এই দিনে বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বর্ষাবাসের সমাপ্তি শেষে পরস্পরের কাছে নিজেদের ভুলত্রুটি স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এ উৎসব মানুষকে হিংসা, লোভ ও ক্রোধ থেকে মুক্ত হয়ে শান্তি, ধৈর্য ও করুণার পথে চলার শিক্ষা দেয়। আজকের সমাজে এই শিক্ষা আরও জরুরি, কারণ আত্মসংযমই সত্যিকারের ধর্মচর্চার সূচনা।” সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে বিহার আকাশজুড়ে উড়ানো হয় ফানুস, যা আলোকিত করে তোলে পুরো দেয়াং পাহাড়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের কাছে প্রবারণা পূর্ণিমা হলো আত্মশুদ্ধি, অনুশোচনা ও নতুন প্রেরণায় জাগরণের প্রতীক দিবস। তাই প্রতি বছরই এই উৎসবকে ঘিরে শাক্যমুনি বিহারে ভক্তদের ঢল নামে। অনুষ্ঠানে সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিহারের সাধারণ সম্পাদক নিকাশ বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক নিকাশ বড়ুয়া বলেন, “প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধ ভিক্ষু ও ভক্তদের জন্য আত্মশুদ্ধির দিন। আমরা চাই, এই পবিত্র দিনে সবাই নিজেদের ভেতরের অশান্তি ও হিংসা দূর করে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের আলোয় উদ্ভাসিত হোক। দেয়াং পাহাড়ে প্রতিবছর যেমনভাবে উৎসবটি সুষ্ঠুভাবে উদযাপিত হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতেও যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য বজায় থাকে, সেটিই আমাদের কামনা।”
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা জানান, ফানুস উড়ানোর দৃশ্য দেখতে আশপাশের গ্রাম থেকেও বহু মানুষ আসে। আলোর ফানুসে মুখরিত পুরো আকাশ যেন শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেয় চারদিকে।
অনুষ্ঠান শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে সমাপ্ত হয় প্রবারণা পূর্ণিমার এই বর্ণিল আয়োজন।



