
বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য সম্পদ হালদা নদী, যা এশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিতে এই নদীর ভূমিকা অপরিসীম। তবে দূষণ, অবৈধ মাছ শিকার ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হালদার স্বতন্ত্র অবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কর্ণফুলী উপজেলার মিলনায়তনে “হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র ও মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে” অংশীজনদের উদ্বুদ্ধকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। মৎস্য অধিদপ্তরের “হালদা নদীর প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় পর্যায়)” এর অর্থায়নে আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুমা জান্নাত।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ। পটিয়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার স্বপ্ন চন্দ্র দে এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন হালদা প্রকল্পের পরিচালক মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, কর্ণফুলী সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা, কর্ণফুলী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল আলীম, বোয়ালখালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নাঈম হাসান, কর্ণফুলী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মোঃ রাকিবুল হাসান, চট্টগ্রাম মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুর রহমান, জনপ্রতিনিধি মোঃ ওসমান, গণমাধ্যম প্রতিনিধি ওসমান হোসেন, সরোয়ার রানা, মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ বলেন, “হালদা নদী শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি সারা দেশের জন্য একটি মূল্যবান সম্পদ। এটি মৎস্য প্রজননের নিরাপদ আশ্রয়, তবে বর্তমানে নানা কারণে সংকটের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে রাবার ড্যাম হালদার জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ড্যামের নীতিমালা মানা হচ্ছে না। এছাড়া নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মা মাছ শিকারের ঘটনাও ঘটছে, যার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিল্প-কারখানার বর্জ্য নদীর দূষণ বাড়িয়ে তুলছে, যা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নদীর তলদেশে পলিথিন জমে গিয়ে মাছের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে, ফলে মাছের খাদ্য সংকট দেখা দিচ্ছে। হালদা রক্ষায় কর্ণফুলী নদীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্ণফুলী রক্ষা ছাড়া হালদাকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়। সরকার মৎস্যজীবীদের জন্য অনুদান বৃদ্ধির পরিকল্পনা করছে, যাতে তারা আইন মেনে টেকসইভাবে মাছ আহরণ করতে পারেন।”
সেমিনারে বক্তারা হালদার জীববৈচিত্র্য রক্ষা, অবৈধ মাছ শিকার বন্ধ এবং দূষণ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে হালদা নদীর ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।



