বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

তথ্যমন্ত্রীর হাত থেকে “গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫”

শিল্প ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ "গ্লোবাল স্টার অ্যাওয়ার্ড ২০২৫" অর্জন করেছেন হোটেল সী ওয়ার্ল্ড কক্সবাজারের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল বশর আবু। সম্প্রতি রাজধানীর ঢাকা রিজেন্সি...

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

কক্সবাজারের সদর এলাকায় গতকাল, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, সংঘর্ষের ঘটনায় শিহাব কবির নাহিদ (৩০) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, এই সংঘর্ষটি কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের সমিতিপাড়া এলাকায় বিমান বাহিনীর একটি চেকপোস্টে ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে যখন একজন স্থানীয় ব্যক্তি তার মোটরসাইকেলের কাগজপত্র না থাকার কারণে বিমান বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ঘাঁটির ভেতরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এরপর স্থানীয় মানুষজন একত্রিত হয়ে বিমান বাহিনীর ঘাঁটির দিকে এগিয়ে গেলে, বিমান বাহিনীর সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এর ফলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় কিছু দুষ্কৃতিকারী বিমান বাহিনীর সদস্যদের উপর ইট-পাটকেল ছুঁড়ে মারে। এতে কয়েকজন বিমান বাহিনীর সদস্য আহত হন। এই সংঘর্ষের সময় শিহাব কবির নাহিদ গুরুতর আহত হন এবং তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তিনি মারা যান।

নিহতের পিতা স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, তার ছেলে বিমান বাহিনীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। তিনি জানান, শিহাবের শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তবে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সবুক্তাগিন মাহমুদ সোহেল জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। স্থানীয়দের মতে, শিহাবের মৃত্যু ফাঁকা গুলির কারণে হয়নি, বরং তাকে গুলি করা হয়েছে, যা নিয়ে পরিবার ও এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ।

এদিকে, আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, শিহাবের মৃত্যু বিমান বাহিনীর গুলিতে হয়নি। আইএসপিআর জানায় যে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়েছিল, কিন্তু কোনো প্রকার তাজা গুলি ছোঁড়া হয়নি। তাদের মতে, ফাঁকা গুলি প্রাণঘাতী নয় এবং শুধুমাত্র শব্দ সৃষ্টি করে। আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, যে অপপ্রচার চলছে, তার ভিত্তি নেই এবং শিহাবের মৃত্যু ফাঁকা গুলির কারণে হয়নি।

এ ঘটনার পর এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিহাবের মা, আমেনা খাতুন, যিনি কক্সবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক, দাবি করেছেন, “বিমান বাহিনী আমার ছেলের মাথায় গুলি করেছে,” যা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা গভীরভাবে শোকাহত। তবে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং এর ফলাফল পরবর্তীতে জানানো হবে।

এই ঘটনার পেছনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক চলছে, যেখানে বিমান বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে। তদন্ত শেষে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশ করবে, যা এই ঘটনায় মূল কারণ ও দোষীদের চিহ্নিত করতে সহায়ক হবে।