বৃহস্পতিবার, জুন ৪, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন অভিযান, বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গোরুক ও কেশম দ্বীপে বিমান হামলা চালিয়েছে...

মেঘের সামনেই খুন করা হয় সাগর-রুনিকে, তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য

সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন করে টাস্কফোর্সের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, তারা আত্মহত্যা করেননি বরং পরিকল্পিতভাবে খুন হন—তাও তাদের একমাত্র সন্তান মেঘের সামনেই। প্রতিবেদনে জানানো হয়, হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় রাত ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে। তখন একই খাটে সাগর-রুনি ঘুমিয়ে ছিলেন তাদের শিশুপুত্র মেঘকে নিয়ে।

টাস্কফোর্সের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়, আগে খুন করা হয় রুনিকে, এরপর সাগরকে। রুনিকে হত্যা করা হয় রান্নাঘরে থাকা বটি বা ছুরি দিয়ে। হত্যার সময় সাগরের হাত-পা বাঁধা ছিল, যাতে তিনি বাধা দিতে না পারেন। রুনিকে নারী হিসেবে দুর্বল ভাবায় তার হাত-পা বাঁধা হয়নি। ব্লাড প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, রুনির দেহে ছুরিকাঘাতের পরও কিছু সময় তিনি জীবিত ছিলেন। একই কথা প্রযোজ্য সাগরের ক্ষেত্রেও।

তদন্তে আরও বলা হয়েছে, এই খুনের ঘটনায় মোট চারজনের ডিএনএ শনাক্ত হয়—যার মধ্যে দু’জন সাগর ও রুনি, অপর দু’জনকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা পুরুষ। ডিএনএ নমুনা বেশি মিশ্রিত থাকায় আধুনিক প্রযুক্তিতেও তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে, হত্যাকারীদের পরিচয় এখনো অজানা থেকে গেছে।

ঘটনার দিন সকাল সাড়ে ১০টার পর গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এর আগেই সাংবাদিক ও আশপাশের মানুষের পায়ের ছাপে নষ্ট হয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ আলামত। যদিও রান্নাঘরের বারান্দার একটি অংশ সম্পূর্ণ নতুন এবং তা দিয়ে বাইরের কেউ সহজেই ভেতরে প্রবেশ করতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে সেখানে পূর্ণাঙ্গ কোনো ফুটপ্রিন্ট মেলেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাম্পত্য কলহ, চুরি কিংবা পেশাগত দ্বন্দ্ব—এই তিনটি সম্ভাব্য মোটিভই খারিজ করে দিয়েছে টাস্কফোর্স। এমনকি আলোচিত বিবিয়ানা গ্যাসফিল্ড রিপোর্ট বা সাগরের মালিকানাধীন এনার্জি বাংলা ডটকমেও কোনো সংবাদের কারণে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে—এমন তথ্য মেলেনি।

টাস্কফোর্স আরও জানিয়েছে, আলামত ও ভিসেরা রিপোর্ট অনুযায়ী, তাদের শরীরে কোনো চেতনানাশক বা বিষ প্রয়োগের চিহ্ন নেই। ফলে স্পষ্ট বোঝা যায়, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং সরাসরি আঘাতের মাধ্যমে সংঘটিত। এ বিষয়ে রুনির অফিসিয়াল নথি পর্যালোচনা করেও কোনো শত্রুতার প্রমাণ মেলেনি।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি। ঘটনার সময় মাছরাঙা টেলিভিশনে কর্মরত ছিলেন সাগর এবং রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। হত্যার পরদিন রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরে তদন্তের জন্য টাস্কফোর্সের হাতে তুলে দেওয়া হয়।