মঙ্গলবার, জুলাই ২৮, ২০২৬

― Advertisement ―

spot_img

কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, কর্ণফুলীতে প্রবল স্রোত

চট্টগ্রামের রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় খুলে দেওয়া হয়েছে কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল থেকে জলকপাট খুলে দেওয়ার পর...

চট্টগ্রামে শিশুধর্ষণ মামলার দ্রুত বিচার, ২৬ দিনেই রায়

চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে মনিরের যাবজ্জীবন; আট কার্যদিবসেই শেষ বিচার, সন্তোষ প্রকাশ পরিবারের

চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে মাত্র ২৬ দিনের মাথায় রায় দিয়েছেন আদালত। আলোচিত এ মামলায় অভিযুক্ত মনির হোসেন (৩০)-কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। মামলাটি দায়েরের পর মাত্র ২৬ দিনের মধ্যে এবং বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার আট কার্যদিবসের মাথায় রায় হওয়ায় এটি দ্রুত বিচার সম্পন্ন হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে আলোচনায় এসেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রায় পাঠ শুরু হয় এবং বিকেল ৩টায় তা শেষ হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি মনির হোসেন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশুধর্ষণ মানবতার বিরুদ্ধে সবচেয়ে জঘন্য অপরাধগুলোর একটি। এ ধরনের অপরাধ একটি শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আদালত আরও মন্তব্য করেন, শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতা সমাজের নৈতিক ভিত্তির ওপরও গুরুতর আঘাত হানে।

মামলার সরকারি কৌঁসুলি মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, “মামলাটি দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যেই আদালত রায় দিয়েছেন, যা বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”

আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটায় শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে উত্তেজিত জনতা পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে কৌশলে অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে থানায় নেওয়া হয়। ওই ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতেও আগুন ধরিয়ে দেয়।

পরদিন ২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাকলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে পুলিশ মাত্র পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। এরপর ৯ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

বিচার চলাকালে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও অন্যান্য উপাদান পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন।

রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা ন্যায়বিচার পেয়েছি। আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আরও বেশি খুশি হতাম।”

আইনজীবীরা বলছেন, শিশু নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার সম্পন্ন হলে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন দ্রুত ন্যায়বিচার পায়, তেমনি সমাজে অপরাধীদের জন্যও কঠোর বার্তা যায়। এ ধরনের রায় ভবিষ্যতে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও মনে করছেন তারা।