
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার ডাঙারচরে জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে যায় নজিরবিহীন একটি ঘটনা। কথিত ছাত্র প্রতিনিধি মো. সেলিম রেজার দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরিকে কেন্দ্র করে থানার ভেতরেই ঘটে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, মারধর এবং পরে একজন বিএনপি নেতাকে অবরুদ্ধ করার মতো অশোভনীয় পরিস্থিতি। এতে রাজনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতিও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
৮ মার্চ বিকেল ৫টার দিকে ডাঙারচর নৌ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে বৈঠকের ডাক দেন তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই আব্দুল হালিম। সেখানে সেলিম রেজা তার দুই ছাত্র প্রতিনিধিকে নিয়ে উপস্থিত হন, অন্যদিকে জুলধা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নেতা মোঃ সালাউদ্দিন আসেন তার অনুসারীদের নিয়ে। বৈঠকে ছাত্র প্রতিনিধিদের উপস্থিতি দেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা বিস্মিত ও উত্তেজিত হয়ে উঠলে, শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়, ধাক্কাধাক্কি এবং শেষ পর্যন্ত মারধর। এতে সেলিম রেজা ও তার পক্ষের একজন এবং সালাউদ্দিন গ্রুপের জকির নামে একজন আহত হন।
পরিস্থিতির অবনতি ঘটে রাতে। হামলার শিকার হয়ে সালাউদ্দিন থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ে কিছু যুবক তাকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। গালিগালাজ করে এবং প্রায় ঘন্টা ব্যাপী তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ সময় থানার সামনে শত শত মানুষ জড়ো হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এসময় উত্তেজিত যুবকের হেনস্থার শিকার হন সাংবাদিকরাও। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় সাংবাদিক আয়াজ জানান, “আমি ভিডিও করছিলাম ঘটনাটার। হঠাৎ করে ছাত্র প্রতিনিধি পরিচয়ধারীরা আমাকে ঘিরে ধরে, মোবাইল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা এবং ভিডিও ডিলিট করতে বাধ্য করে। এমনকি তারা আমাকে হুমকিও দেয়।”
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, সেলিম রেজা ক্ষমতাসীন দলের ছায়ায় থেকে বারবার নিজের পরিচয় বদলে নানা সুবিধা নিচ্ছেন। তার অতীতেও রয়েছে বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ, বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা এবং আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু স্মৃতি সংসদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার রেকর্ড। যদিও এখন তিনি নিজেকে ছাত্র প্রতিনিধি বা ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ক পরিচয়ে দিচ্ছে নিজেকে।
কর্ণফুলী থানার ওসি মুহাম্মদ শরীফ বলেন, “আমি ওই সময় থানায় ছিলাম না, সিএমপির একটি মিটিংয়ে ছিলাম। পরে খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
বিএনপির পক্ষ থেকে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মো. ওসমান বলেন, “ঘটনা সম্পর্কে আমরা অবগত। কিন্তু পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানতে হলে সালা উদ্দিনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে।”
স্থানীয়দের একাংশ বলছে, “দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সেলিম রেজার মতো প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাবে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন।”



