
দুশতাধিক জনবসতির মাঝে চলছে মাছ শুকানোর বিশাল কর্মযজ্ঞ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরাতন ও পঁচা মাছ রোদে শুকিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শুঁটকি। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার মইজ্জ্যারটেক এলাকায়, বিশেষ করে শাহ আমানত সেতুর টোল প্লাজার পশ্চিম পাশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধে ভুগছে স্থানীয়রা। শুঁটকি মাচার অতি নিকটে রয়েছে ৩৭টি পরিবারের একটি কলোনি, যেখানে প্রায় দেড়শতাধিক মানুষ বসবাস করছে। শিশু, বৃদ্ধ ও কর্মজীবী নারীদের নিয়ে তাদের দুর্বিষহ জীবনযাপন চলছে, যা যেকোনো বিবেকবান মানুষকে নাড়া দেবে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধের কারণে তারা স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না। শুঁটকি পোকা ঘরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে, রান্নাঘরেও কিলবিল করছে এসব পোকা। দরজা-জানালা বন্ধ রেখেও দুর্গন্ধ থেকে রেহাই মিলছে না। শিশুরা প্রতিনিয়ত নানা শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। স্থানীয় সত্তরোর্ধ্ব আবুল কালাম, গৃহবধূ ইয়াছমিন, তানিয়া ও কর্মজীবী বিবি হাওয়া অভিযোগ করে বলেন, “স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে এমন পরিবেশে বসবাস করা কঠিন। অতিথিরা আসতে চায় না, আর ব্যবসায়ীদের কাছে অভিযোগ জানালে তারা পাত্তা দেয় না।” সরেজমিনে দেখা গেছে, পঁচা মাছের নাড়িভুঁড়ি এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে চারদিকে। মাছের রক্তমিশ্রিত নোংরা পানি খালের পানির সঙ্গে মিশে গড়াচ্ছে। ড্রাম ভর্তি কেমিক্যাল মেশানো পানি ও মাছের চর্বির স্তূপের উপর বনবন করে উড়ছে মাছি। চারদিকে গন্ধে টেকা দায়, অথচ পরিষ্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। স্থানীয়দের দাবি, আবাসিক এলাকায় এমন নোংরা পরিবেশ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অনতিবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এসব শুঁটকি মাচা উচ্ছেদ করা হলে এলাকাবাসী সুস্থ পরিবেশ ফিরে পাবে।
কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা জান্নাত জানান, “জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে, এমন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা হচ্ছে। অভিযুক্ত শুঁটকি প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। জনদুর্ভোগ হয় এমন কোন সঠিক তথ্য প্রমাণ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



