
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার জুলধা বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে ঘিরে ক্ষতিপূরণ ও স্লাইচার (অপসারিত জ্বালানি তেল) বণ্টনের প্রশ্নে ডাঙ্গারচর এলাকায় ফের উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, “রক্ষা কমিটি”র ব্যানারে একদল বহিরাগত, ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, এলাকায় বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত। এমন পরিস্থিতির প্রতিবাদে শনিবার (৩ মে) সকাল ১০টায় ডাঙ্গারচরের ১১ নম্বর ঘাট সংলগ্ন মাঠে শত শত নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন, থালা-বাসন, কলসি হাতে নিয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনের আয়োজন করে “হাজী ছমদ মিয়ার বাড়ি ও ঘাট চৌধুরী বাড়ির রক্ষা কমিটি” নামে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা। তাঁরা অভিযোগ করেন, “যারা রক্ষা কমিটির নামে বহিরাগত এনে নাটক করছে, তারা কখনও এলাকার মানুষ ছিল না। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মোকাবিলা করেছে। আর আজ তারা নিজেরা বঞ্চিত থেকে বাইরের লোকদের অনুপ্রবেশ দেখে ক্ষুব্ধ।”

বক্তারা বলেন, “বহিরাগতরা এসেছে রাজনৈতিক মদদে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ পেয়েছি, ঠিক তখনই ‘রক্ষা কমিটি’র নামে পুরনো দোসরেরা ফের মুখোশ পরে এসে নাটক শুরু করেছে।”
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্লাইচার বণ্টন ছিল স্থানীয় কয়েকটি পরিবার ও হতদরিদ্র মানুষের আয়-রোজগারের একটা উৎস। কিন্তু বর্তমানে একটি প্রভাবশালী মহল সেখানে ভাগ বসাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ চক্রই এলাকায় বিশৃঙ্খলা, হুমকি-ধমকি ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করতে চাচ্ছে।
এক নারী বক্তা বলেন, “সকাল বেলা সমাবেশ না আসতে কয়েক জন বাড়ি বাড়ি নিষেধ করে এসেছে। আমাদের বাড়ির মহিলাদের ভয় দেখানো হচ্ছে যেন আমরা প্রতিবাদ না করি। কিন্তু আমরা কারও হুমকিতে ভয় পাই না। অধিকার আদায়ে রাজপথে আছি, থাকব।”
মানববন্ধনে ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসনের দাবিও জোরালোভাবে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, “বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে লাভ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠান, কিন্তু ভোগান্তি কেবল স্থানীয়দের। স্বাস্থ্যঝুঁকি, জমির ক্ষতি, পরিবেশ দূষণ সব কিছুই আমাদের সহ্য করতে হচ্ছে। অথচ সরকার বা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ কারও খোঁজ রাখে না।”
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “স্থানীয় অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মো. সালাউদ্দীন, মো. মনির আহম্মদ, আবু তালেব, আনোয়ার, শাহাজাহান, সেকান্দর, জাকির, কাদের, ইলিয়াস, সেলিম, মহিউদ্দিন, আজাদ, জাহিদ, রুবেল, ছলেমা বেগম, নুরবানু, সাজু বেগম, খুরশিদা খাতুন, আজম আলী, জাগির আহমেদ, মো. সুমন, নুর ইসলাম, ফারুক সহ হাজী ছমদ মিয়ার বাড়ি, ঘাট চৌধুরী বাড়ি এবং স্থানীয় প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ।



