
চট্টগ্রামের সিএমপি কর্ণফুলী থানাধীন আনোয়ারা উপজেলার পারকি সমুদ্র সৈকতে ঈদুল আজহার ছুটিতে বিনোদনপ্রেমী পর্যটকদের সঙ্গে ঘটেছে দুর্ব্যবহার, চাঁদাবাজি ও প্রকাশ্য হয়রানির ঘটনা। ‘ডিসি অফিস থেকে ইজারা নেওয়া হয়েছে’—এই দাবি করে একদল লোক পার্কিংয়ের অজুহাতে সৈকতে যাওয়ার সড়কে যানবাহন আটকিয়ে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দেয় সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ঈদের দ্বিতীয় দিন (৮ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্ণফুলীর পারকি সৈকতের আশপাশের সড়কে চাঁদাবাজির এ দৃশ্য চোখে পড়ে। পর্যটকদের দাবি, সৈকতের মূল গেটের বহু আগেই গাড়ি থামিয়ে ‘পার্কিং ফি’র নামে জোর করে টাকা আদায় করছে একদল যুবক। যারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললে গালিগালাজ ও শারীরিক হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন একাধিক পর্যটক।
স্থানীয় এক ইজারাদার আতিক দাবি করেন, “ডিসি অফিস থেকে আমরা ১৮ লাখ টাকায় পার্কিংয়ের ইজারা নিয়েছি। পারকি সৈকত থেকে ফুলতলা পর্যন্ত এলাকায় পার্কিংয়ের দায়িত্ব আমাদের। কেউ যদি অভিযোগ করে, ডিসিকে জানাতে পারে।” তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই তথাকথিত ইজারার নামে মূলত সড়ক দখল করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।
বিশেষ করে সালেহ আহমদ নামের এক ব্যক্তি ও তার সঙ্গীরা নিয়মিত পর্যটকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করছে বলে অনেক পর্যটক ভিডিও ফুটেজসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ ও ট্যুরিস্ট পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও তাদের কার্যকর কোনো ভূমিকাই দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, বিকেলের দিকে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েকজনকে আটক করে। তৎক্ষণিকভাবে আটক ব্যক্তিদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। তাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।



