
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে আলোচনা সভা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্বাধীনতার চেতনা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টায় কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের অডিটোরিয়াম হলে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব কান্তি রুদ্র। সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হোসেনের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা–কর্ণফুলী) আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামান নিজাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সরওয়ার জামান নিজাম মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই দুঃসহ সময় কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা সমগ্র জাতিকে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই বাঙালি জাতি স্বাধীনতার সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্রের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরবর্তীতে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহুদলীয় সংসদীয় গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করেন। বক্তারা বলেন, স্বাধীনতার চেতনা এবং গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ধরে রাখতে হলে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনূর আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল হক, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আব্বাস, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও কর্ণফুলী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম মামুন মিয়া, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও সাবেক উপজেলা সদস্য সচিব হাজী ওসমান, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এস. এম. ফোরকান, দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব কামরুদ্দীন সবুজ এবং শফিউল আলম চৌধুরী জাকারিয়া প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই তাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ফুল দিয়ে সম্মাননা জানানো হয় এবং তাদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ অনুষ্ঠান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক তাৎপর্যপূর্ণ আয়োজন হিসেবে উপস্থিত সবার মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা জাগিয়েছে।



